নামাজের নিয়মাবলী, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নিয়ম

প্রিয় ভিজিটরস আসসালামু আলাইকুম আশাকরি ভালো আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমরা ভালো আছি। আজকের আলোচনার বিষয় নামাজের নিয়মাবলী। আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যারা অনলাইনে নামাজের নিয়মাবলী অনুসন্ধান করেন। তাই আজকে আমরা নামাজের নিয়মাবলী সম্পর্কে আপনাদের সামনে বিস্তারিত আলোচনা করব। আশা করি এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা উপকৃত হবেন জানতে পারবেন নামাজের নিয়মাবলী সম্পর্কে। নামাজের নিয়মাবলী সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলা যায় এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনি উপকৃত হবেন।
সুতরাং যারা নামাজের নিয়মাবলী সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটে এসেছেন তাদের সবার প্রতি অনুরোধ রইল, সঠিকভাবে নামাজের নিয়মাবলী সম্পর্কে জানবেন । এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবেন। আমাদের ওয়েবসাইট থেকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নিয়মাবলী সম্পর্কে দেওয়া রইল।
নামাজের নিয়মাবলী
নামাজ হচ্ছে একটি ফরজ ইবাদত। যেটি আদায় করতেই হবে। তাই আজকে আমরা এই নামাজ এর নিয়মাবলী সম্পর্কে আপনাদের সাথে আলোচনা করব। নামাজের সাধারণ কিছু নিয়ম রয়েছে সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো আপনারা অবশ্যই এই নিয়ম গুলো দেখে নেবেন।
তাকবিরে তাহরিমা বা আল্লাহু আকবার বলে নামাজে প্রবেশ করবে। এরপর সানা (সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা…) পড়বে।
সানা পাঠের শেষে সুরা ফাতিহা পড়তে হবে। সুরা ফাতিহা পাঠের পর অন্য কোনো সুরা যেমন সুরা ফিল বা সুরা কুরাইশ বা সুরা কাফিরুন বা অন্য যে কোনো সুরা পাঠ করতে হবে।
সুরা ফাতিহা পাঠের পর পবিত্র কুরআন থেকে যে আয়াত বা সুরা তেলাওয়াত করা হয় সেটাকে কিরাত বলা হয়।
আর কিরাতের নিময় হলো মুসল্লির কাছে পবিত্র কুরআনের যে অংশটুকু সব চেয়ে সহজ ও সাবলিল সেখান থেকে কিছু অংশ তেলাওয়াত করবে।
তেলাওয়াতের পরিমাণ ছোট ছোট তিন আয়াত বা বড় এক আয়াত হতে হবে। যেমন সুরা কাওসারের পুরো সুরা মিলে তিন আয়াত।
আবার আয়াতুল কুরসি বড় একটি আয়াত কিন্তু তা ছোট একটি সুরার সমান। এরকম এক আয়াতই তেলাওয়াত করে নিলে হয়ে যাবে।
কিরাত পাঠ করে নিলে আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে চলে যাবে। রুকুতে গিয়ে সর্বনিম্ন তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আযিম’ বলবে।
এরপর ‘সামি আল্লাহু লিমান হামিদা’ বলে রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। এবং ‘রাব্বানা লাকাল হামদ বলবে।
তারপর আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় চলে যাবে। সিজদায় তিনবার ‘সুবাহানা রাব্বিয়াল আ’লা’ বলবে।
অতপর আল্লাহু আকবার বলে বসবে। বসার পর ‘রাব্বিগ ফিরলি ওয়ারহুমনি… পড়বে।
অতপর আবার সিজদা করে উক্ত তাসবিহ তিনবার পড়বে।
এরপর আল্লাহু আকবার বলে দাঁড়িয়ে যাবে। এবং পূর্বের মতো সুরা ফাতিহা ও কিরাত পড়ে রুকু করে সিজদা করবে।
ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম
এখান থেকে আপনি জানতে পারবেন ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম। ফজরের নামাজ কত রাকাত। কিভাবে কোন সময়ে আদায় করবেন এই বিষয়ে সকল তথ্য। আশাকরি এখান থেকে আপনি খুব সহজে ফজরের সালাত সম্পর্কে জানতে পারবেন।
সুবহে সাদিকের পর ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়। ফজরের নামাজ মোট চার রাকাত।
ফরজ দুই রাকাত আর সুন্নতে মুয়াক্কাদা দুই রাকাত। প্রথমে সুন্নত দু রাকাত পড়তে হয় এরপর ফরজ দু রাকাত।
ফজরের সুন্নত দু – রাকাত পড়ার নিয়ম
ফজরে সুন্নত দু – রাকাত নামাজ আদায়ের আলাদা কোনো নিয়ম নেই। উপরে আলোচিত নিয়মেই পড়তে হবে।
প্রথমে আল্লাহু আকবার বা তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজে প্রবেশ করবে। এরপর সুরা ফাতিহা ও কিরাত পাঠ অন্যান্য বাকি নিয়মে নামাজ পুরো করবে।
সুরা ফাতিহা, কেরাত ও অন্যান্য তাসবিহ সকল কিছু নিম্নস্বরে আদায় করবে।
যুহরের সালাত আদায়ের পদ্ধতি
এই সালাত কত রাকাত কিভাবে আদায় করবেন এ সম্পর্কে নিচে দেওয়া হলো আপনারা এখান থেকে দেখে নিন। সালাত জামাতের সাথে আদায় করার চেষ্টা করবেন। অন্যথায় কোন কারণে যদি জামায়াত এসো না হতে পারেন তবে একা আদায় করে নেবেন। কোনভাবেই নামাজ ছেড়ে দেওয়া যাবে না। নিচে নিয়ম দেয়া হলো।
যুহরের নামাজ দশ রাকাত। প্রথমে সুন্নত চার রাকাত। ফরজ দুই রাকাত। এরপর সুন্নত দুই রাকাত।
ফরজ আদায়ের পূর্বে চার রাকাত সুন্নত আদায় করে নিবে। এই চার রাকাত আদায়ের নিয়ম উপরে আলোচিত হয়েছে।
সুন্নত চার রাকাত আদায়ের পর ফরজ চার রাকাত আদায় করতে হয়। আর ফরজ নামাজ যেহেতু জামাতে পড়া ওয়াজিব তাই ইমাম সাহেবের ইক্তেদা করে নিলেই হবে।
ইমাম সাহেবের সাথে ফরজ চার রাকাত আদায় করে তার সাথে সালাম ফিরিয়ে মাসনুন তাসবিহ তাহলিল পাঠ করবে।
এরপর সুন্নত দুই রাকাত পড়বে। যুহরের ফরজ ও সুন্নত সকল প্রকার নামাজেই সুরা কিরাত নিম্নস্বরে তেলাওয়াত করতে হয়।
আসরের নামাজ পড়ার নিয়ম
আসরের নামাজ সম্পর্কে যারা জানতে চান তারা এখান থেকে জেনে নিতে পারবেন এই বিষয়ে। নামাজ হচ্ছে বেহেস্তের চাবি। এই কথাটা সকলে জানলেও নামাজ অলসতা করে অনেকেই ছেড়ে দেয়। এটি মোটেও ঠিক নয়। এর ফলাফল অনেক ভয়াবহ। তাই সকলের প্রতি অনুরোধ আপনারা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করবেন।
আসরের নামাজ আট রাকাত। প্রথমে চার রাকাত সুন্নতে গায়র মুয়াক্কাদা। পরে চার রাকাত ফরজ।
সুন্নত চার রাকাত যেহেতু সুন্নতে গায়র মুয়াক্কাদা তাই তা পড়া ভালো। সওয়াব হবে। কিন্তু না পড়লে গোনাহ হবে না।
এরপর ফরজ চার রাকাত আদায় করবে। ইমাম সাহেবের সাথে জামাতে আদায় করে নিলে কেবল ইমাম সাহেবকে অনুসরণ করবে।
মাগরিবের সালাত কীভাবে পড়তে হয়
মাগরিবের নামাজ পাঁচ রাকাত। প্রথমে ফরজ তিন রাকাত এরপর সুন্নত দুই রাকাত।
ফরজ নামাজ জামাতে আদায় করে নিলে ইমাম সাহেবকে অনুসরণ করা ও জায়গায় জায়গায় তাসবিহ তাকবির বললেই নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে।
আর একএকা পড়লে প্রথমে সুরা কিরাত নিম্নস্বরে পাঠ করে দুই রাকাত পূর্ণ করবে। এরপর প্রথম বৈঠক করে দাঁড়িয়ে যাবে।
তৃতীয় রাকাতে কেবল সুরে ফাতিহা পড়ে রুকু সিজদা করে আত-তাহিয়াতু ও আল্লাহুম্মা সাল্লিয়ালা… বারিকালা… পড়ে সালাম ফিরিয়ে নিবে।
অতপর দু রাকাত সুন্নত আদায় করে নিবে। সুন্নত নামাজের নিময় উপরে আলোচিত হয়েছে। এই সুন্নতেও সুরা কিরাত নিম্নস্বরে পড়বে।